বাঁচার আকুতি শরিফের, ২২ লাখ টাকা প্রয়োজন
Published : ২২:৩৩, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মো. শরিফ, বয়স মাত্র ১৫ বছর। এই কিশোর এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অসহায় পরিবারের সন্তান শরিফের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২২ লাখ টাকা।
কিন্তু তার ভ্যানচালক বাবার পক্ষে এত বিপুল অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি দিন পরিবারটির কাছে যেন একেকটি দুঃসহ দুঃস্বপ্ন।
শরিফ চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের ছোট ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে হঠাৎ করেই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে স্থানীয় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, শরিফ ডুচেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি নামক একটি গুরুতর বংশগত বিরল রোগে আক্রান্ত। এই রোগ ধীরে ধীরে শরীরের পেশিশক্তি নষ্ট করে দেয় এবং এর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিতে হবে। সম্পূর্ণ চিকিৎসা সম্পন্ন করতে প্রয়োজন প্রায় ২২ লাখ টাকা।
শরিফের বাবা আবুল কালাম একজন দিনমজুর ও ভ্যানচালক। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কষ্টে সংসার চালান। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি ইতোমধ্যে তার ভ্যানগাড়ি এবং এক শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকেও ধারদেনা করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।
আবুল কালাম বলেন, পাঁচ বছর বয়সে ছেলেকে মাদরাসায় ভর্তি করান তিনি। নয় বছর বয়সে হঠাৎ করে শরিফের হাঁটাচলায় সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে ঢাকায় নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। এখন ভারতে চিকিৎসা করাতে হলে ২২ লাখ টাকা প্রয়োজন। তিনি সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শরিফের মা ফাতেমা বলেন, নয় বছর বয়স পর্যন্ত তার ছেলে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে সে হাঁটতে পারে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোগটি অত্যন্ত জটিল। তাদের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ছেলেটির চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রতিবেশীরাও শুরুতে কিছুটা সহযোগিতা করেছেন। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো শরিফের চিকিৎসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, শরিফের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
বিডি/এএন
































