নোম্যান্সল্যান্ডে আটকে থাকার পর ২১ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ, রৌমারী সীমান্তে ফের পুশ-ইনের চেষ্টা

নোম্যান্সল্যান্ডে আটকে থাকার পর ২১ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ, রৌমারী সীমান্তে ফের পুশ-ইনের চেষ্টা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১০:৫৮, ৯ জুন ২০২৬

নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আটকে থাকা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিল ভারতীয় বাহিনী; সীমান্তজুড়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার

বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তে শূন্যরেখায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ২১ জনকে অবশেষে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে একই সময়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৮ জুন) গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। এর আগে তারা ৪৮ থেকে ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় অবস্থান করছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুসহ ১১ জন প্রায় দুই দিন ধরে শূন্যরেখায় আটকে ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি বাধা দেয়। পরে তারা সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। রোববার গভীর রাতে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, ফিরিয়ে নেওয়া ১১ জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু ছিলেন।

একইভাবে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা আরও ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। গত শুক্রবার ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তা ব্যর্থ হয়।

টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে কয়েকদিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থানের পর রোববার মধ্যরাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফিরিয়ে নেওয়ার আগে বিএসএফ বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বকবান্দা ও ঝাউবাড়ী সীমান্তে রোববার সন্ধ্যায় আবারও কয়েকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থান নিয়ে ওই প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন।

স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে ওই সীমান্ত এলাকায় একাধিকবার একই ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা হয়েছে। তবে বিজিবির বাড়তি টহল ও স্থানীয়দের সতর্কতার কারণে সেসব উদ্যোগ সফল হয়নি।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিরোধে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement