কী হয় নিয়মিত মোমো খেলে?

কী হয় নিয়মিত মোমো খেলে? ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৭:৫২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রাস্তার পাশের ছোট ফুড কার্ট থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ পর্যন্ত, মোমো আজকাল সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ধোঁয়া ওঠা গরম এক প্লেট মোমোর সঙ্গে ঝাল চাটনির সংমিশ্রণ মুহূর্তেই মেজাজ বদলে দিতে সক্ষম।

ক্ষুধা মেটাতে বা ক্লান্ত বিকেলের মানসিক চাপ কমাতে মোমো অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে এক প্রকার কমফোর্ট ফুড।

প্রথম দৃষ্টিতে মনে হতে পারে মোমো স্বাস্থ্যকর, কারণ এতে তেল-মসলা কম এবং ভাজাভাজার ঝামেলাও নেই। তবে পুষ্টিবিদরা মনে করেন, এর পেছনের গল্প কিন্তু এতটা সরল নয়। মোমোর প্রধান উপাদান হলো ময়দা, যা রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে পড়ে। দেখতে যতই সাদা এবং নরম হোক না কেন, পুষ্টিগুণে এর কার্যকারিতা প্রায় নেই।

এর সঙ্গে মিশে থাকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত উপাদান, যা শরীরের জন্য তেমন কোনো উপকার বয়ে আনে না। ফলে এতে প্রয়োজনীয় ফাইবার, প্রোটিন বা ভিটামিন-মিনারেলের উপস্থিতি খুব কম। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মোমো থাকলে হজমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে পারে, পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, পেটফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যা শরীরের সামগ্রিক মেটাবলিজমেও প্রভাব ফেলে।

মোমোর আসল স্বাদ নির্ভর করে ঝাল-টক চাটনির ওপর। কিন্তু এই চাটনিতেই লুকিয়ে থাকে অস্বাস্থ্যকর উপাদান। অতিরিক্ত লবণ এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি এতে থাকা অস্বাভাবিক নয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি কার্ডিয়োভাসকুলার সিস্টেমের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে।

পুষ্টিবিদরা বলেন, যদি মোমো নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হয়, তবে প্রভাব কেবল পেটে অস্বস্তি বা গ্যাসেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে থাকা উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনা, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত মোমো খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি কমে যায় এবং ভবিষ্যতে মেটাবলিক রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা আছে, তাদের মোমো নিয়মিত খাওয়ার আগে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। মোমোর গ্লুটেন, চাটনিতে ব্যবহৃত সয়া সস এবং ফিলিং-এ থাকা প্রক্রিয়াজাত উপাদানগুলো কারো শরীরে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে হঠাৎ ত্বকে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে নানা ধরনের এবং নানা স্বাদের মোমো সহজলভ্য। ভাজা বা সসে ভেজানো মোমোর তুলনায় সেদ্ধ বা স্টিমড মোমো স্বাস্থ্যকর। এতে ক্যালোরি এবং ক্ষতিকর উপাদান কম থাকে, ফলে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো খাবারই অতিরিক্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। পরিমিত পরিমাণে খেলে মোমো সহজেই একটি সুষম খাদ্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সপ্তাহে এক বা দুইবার স্টিমড মোমো খাওয়া যেতে পারে, যা স্বাদ উপভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমায়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement