৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:৫২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় অবস্থান করা ‘মেগাথার্স্ট’ ফল্ট থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘আর্থকুয়েক অ্যাওয়ারনেস, সেফটি প্রটোকল অ্যান্ড ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই শঙ্কার বিষয়টি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড।

সেমিনারে ভূমিকম্প গবেষক, স্থপতি, প্রকৌশলী, রিয়েল এস্টেট খাতের উদ্যোক্তা, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশ নেন। আলোচনায় বক্তারা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার উল্লেখ করেন, যেখানে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার সাবডাকশন জোনে দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত শক্তি এখনও মুক্ত হয়নি বলে বলা হয়।

সেই গবেষণায় ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা উত্থাপন করা হয়েছিল। সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সাবডাকশন অঞ্চলে গত ৮০০ থেকে ১০০০ বছর ধরে জমে থাকা চাপই বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে বড় সতর্ক সংকেত।

বক্তারা আরও তুলে ধরেন, বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট—ভারত, মিয়ানমার ও ইউরেশিয়া—এর মিলনস্থলে অবস্থিত হওয়ায় স্বভাবতই ভূমিকম্প ঝুঁকি অত্যধিক।

সিলেটের ডাউকি ফল্ট, চট্টগ্রাম-টেকনাফের চিটাগং-আরাকান ফল্ট এবং মিয়ানমারের সাগাইং ফল্ট এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দ্রুত এবং পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ, ঘন জনবসতি, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড উপেক্ষা এবং অপ্রতুল সড়ক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে বড় ধরনের দুর্যোগেও ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমে আসবে। প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কতা ব্যবস্থা, দক্ষ উদ্ধারকাজের সক্ষমতা, ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল অডিট এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ মান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাপানের দুই ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ কেসিরো সাকো এবং হেসাইয়ে সুগিয়ামা। তারা জাপানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নির্মাণমান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন।

বক্তারা বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া একটি ভূমিকম্প-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। জনগণের নিয়মিত অংশগ্রহণ, মহড়া, পরিবারভিত্তিক জরুরি পরিকল্পনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তারা জোর দেন।

জেসিএক্স ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী স্বাগত বক্তৃতায় বলেন, গত কয়েক মাসে ঢাকায় অনুভূত একাধিক কম্পনই দেশের ঝুঁকির প্রতিচ্ছবি।

দ্রুত নগরায়ণ, ঘনবসতি এবং দুর্বল ভবন কাঠামোর কারণে বড় কোনো ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার মতে, রাষ্ট্র, আবাসন খাত এবং সাধারণ নাগরিক—এই তিন স্তম্ভ শক্তিশালী হলেই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত প্রকৌশলী প্রফেসর ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া, বুয়েটের প্রফেসর ড. সৈয়দ ফখরুল আমিন, রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুজ্জামান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী, রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম,

ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল হোসেন চৌধুরী রিজভী, প্রফেসর ড. রাকিব আহসান (বুয়েট), বাজুস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান, বিএমইডির পরিচালক মমিনুল ইসলাম, স্থপতি আরিফুল ইসলাম, স্থপতি রফিক আজম এবং ভিস্তারার এমডি মুস্তফা খালিদ পলাশ।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement