রংপুর সিটি কর্পোরেশনে জরুরি সেবায় ভোগান্তি

রংপুর সিটি কর্পোরেশনে জরুরি সেবায় ভোগান্তি ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি

Published : ২১:২৬, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

গুরুত্বপূর্ণ তিন কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনে জরুরি পরিসেবাসহ সব ধরনের কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে জোড়াতালি দিয়ে চলছে সিটি কর্পোরেশনের জরুরি পরিসেবা কার্যক্রম। লিখিতভাবে জানানোর পরও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

নভেম্বর মাসের বেতন পাওয়া নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদবীর কর্মকর্তা যোগদান না করলে নভেম্বর মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না কর্পোরেশনের দুই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর।

অক্টোবর মাসের বেতন এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরের অনুমতি নিয়ে ১০ নভেম্বর দেওয়া হয়। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষর ছাড়া কোনও চেক ইস্যু করা যায় না।

গত ১৩ অক্টোবর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতেমা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। সচিব জয়শ্রী রাণী সেপ্টেম্বর মাসে এবং একই মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হয়ে চলে যান। ফলে দুই মাস ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদ শূন্য রয়েছে।

এসব পদে কাউকেই পদায়ন করা হয়নি। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, কর্পোরেশনের যেকোনও ফাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসকের স্বাক্ষর ছাড়া কোনও কাজই করা যায় না।

বিশেষ করে আর্থিক বিষয়ে ফাইলে ও চেকে ওই কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষর ছাড়া কোনও অর্থ উত্তোলন করা যায় না। তাদের যৌথ স্বাক্ষর থাকতেই হবে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এতে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বিশেষ করে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্ল্যান পাস করা। নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজই হচ্ছে না।

অপরদিকে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের বিল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর খামার এলাকার আকবর হোসেন বলেন, বাসার মাস্টার প্ল্যান ফি জমা দিলেও দুই মাস ধরে কোনও কাজ হচ্ছে না। একই কথা বলেন কেরানীপাড়ার মমতাজ বেগমসহ অনেকেই।

প্রকৌশল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন জরুরিভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে করা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, যান্ত্রিক, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য শাখার কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ধারদেনা করে ও বাকিতে জরুরি কাজ করতে হচ্ছে। হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায়, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ৮ শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী আছে।

যারা অস্থায়ী ভিত্তিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। তাদের মাসিক বেতন ৪৫ লক্ষ টাকা। একইভাবে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগে আরও ৮০০ বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে যাদের অক্টোবর মাসের বেতন নভেম্বর মাসে ১০ তারিখে দেওয়া গেলেও নভেম্বর মাসের বেতন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বদলিজনিত কারণে না থাকায় নানা সমস্যা হচ্ছে। জরুরি পরিসেবা নগরবাসীকে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে একজনকে পদায়ন করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement