জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে চার বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎমায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে মারধর করে এবং পরে পুলিশে তুলে দেন।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার তিলকপুরের গিলাকুড়ি গ্রামে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মাথায় ধারালো আঘাতের চিহ্নসহ বুক ও কপালে ক্ষত পাওয়া গেছে। তারা ধারণা করছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। নিহত নাঈম হোসেন (৪) ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। আটক জাহানারা বেগম (৩২) তার সৎমা।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আব্দুল জলিলের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যাঁর সংসারেও দুই সন্তান জন্ম নেয়। ওই স্ত্রীও সন্তান জন্মের সময় মারা গেলে তিনি তিন বছর আগে তৃতীয় বিয়ে করেন জাহানারা বেগমকে। জাহানারার নিজেরও একটি সন্তান রয়েছে। ঘটনার দিন সকালে নাঈম বাড়িতে থাকাকালীন তিনি শিশুটিকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে বাড়ির বাথরুমে অসুস্থ অবস্থায় নাঈমকে পড়ে থাকতে দেখে সৎমা প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। নওগাঁ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে সৎমাকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
জাহানারা বেগম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাঈম কীভাবে মারা গেছে তিনি জানেন না; লোকজন ভুলভাবে তাকে অভিযুক্ত করে নির্যাতন করেছে।
আক্কেলপুর থানার তদন্ত পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম জানান, শিশুটির সৎমাকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনাটি হত্যা হিসেবে বিবেচনা করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।































