রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করলেই জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস মানে শুধু মিষ্টি বা চিনি ছাড়া নয়—বরং এমন কিছু খাবার রয়েছে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও উপযুক্ত খাবার নির্বাচন—এই তিন বিষয়ই একজন ডায়াবেটিস রোগীর সুস্থতা নির্ধারণ করে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার বাছাইয়ে সাবধানতা জরুরি। তবে তাদের জন্য নিরাপদ ও উপকারী কিছু খাবারের মধ্যে রয়েছে অঙ্কুরিত ছোলা, মুগ ও বাদাম।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কেন অঙ্কুরিত খাবার উপকারী?
১. অঙ্কুরিত ছোলা, মুগ ও ডালে বাড়তি পুষ্টিগুণ
এই ধরনের অঙ্কুরিত খাদ্যদ্রব্যে থাকে উচ্চমাত্রার উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। ওজন নিয়ন্ত্রণ ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার একটি মূল অংশ। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পেট ভরাতে সাহায্য করে এবং দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়তে দেয় না।
২. প্রচুর ফাইবার মেলে
অঙ্কুরিত ছোলায় ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, ফাই버 শরীরে একধরনের ‘ফিল্টার’-এর মতো কাজ করে। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়তে পারে না। তাই ডায়াবেটিস ডায়েটে ফাইবার অপরিহার্য।
৩. ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক
ডায়াবেটিস রোগীদের দেহে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ না করার প্রবণতা থাকে। অঙ্কুরিত খাবারে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও বিভিন্ন এনজাইম হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়।
৪. কম ক্যালোরিতে বেশি পুষ্টি
অঙ্কুরিত মুগ বা ছোলায় ক্যালোরির তুলনায় পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের খাবার খুব সহায়ক। স্থূলতা ডায়াবেটিসের জটিলতা বাড়ায়, তাই কম ক্যালোরি কিন্তু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া জরুরি।
৫. ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ
অঙ্কুরিত খাবারে থাকে নানা ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট—যেমন ভিটামিন বি, সি, ই, কে, ফাইটিক অ্যাসিড, জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামসহ প্রয়োজনীয় খনিজ। এগুলো শরীরের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, ফোলেট ও ভিটামিন–সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ডায়াবেটিস রোগীরা যদি নিয়মিত ও মাপমতো অঙ্কুরিত ছোলা বা মুগ ডায়েটে যুক্ত করেন, তাহলে স্বাস্থ্য উপকার মিলবে। তবে উপকারী বলেই বেশি পরিমাণে খাবার ঠিক নয়—পরিমিতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

































