রংপুরে অর্ধশতাধিক ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

রংপুরে অর্ধশতাধিক ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:৫৫, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রংপুর নগরীতে প্রায় অর্ধশতাধিক ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিক¤প বা দূর্যোগ হলে এসব ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশস্কা রয়েছে।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি চালাচালি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী উদ্যোগ চোখে পড়েনি। গণপূর্ত রংপুর বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল আলম বলেন, সরকারি ১৭টি ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব ভবনের প্রায় সবগুলোর নির্মাণকাল দেড়শ বছর পেরিয়ে গেছে। রংপুরে বেসরকারি ভবন স¤পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগরবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন স¤পর্কে তথ্য সংগ্রহ চলছে।

পুরোনো হিসাবে প্রায় ৩০টির অধিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও কিছু ভবন নির্মাণ ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় সেসব ভবন মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। রংপুরে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি হলো রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতাল। এটি ১৮৬৪ সালে নির্মাণ করা হয়। ১৯১২ সালে নির্মাণ করা হয়েছে পুলিশ সুপারের রান্নাঘর ও গৃহপরিচারিকার বাসভবন।

এডিএম কোর্ট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৩১ সালে। রেকর্ডরুম ১৯১৬ সালে, জেলা জজের বাসভবন ১৯১৬ সালে, সিভিল সার্জন বাসভবন ১৯১৬ সালে, সিভিল সার্জন অফিস ১৯৬১ সালে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাসভবন ১৯১২ সালে, পুলিশ সুপারের বাসভবন ১৯১২সালে, রংপুর শিশু পরিবার বালক  ১৯৮৬ সালে, ডিসি বাংলো পুলিশ গার্ড সেড ১৯২০ সালে।

এ ভবনগুলো স¤পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও সেসব ভবনে বিচারিক কাজ, কয়েদিদের চিকিৎসাসহ বসবাস করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নগরবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সিটির পার্ক মার্কেট প্রায় ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

কিন্তু কোনো দোকান মালিক তাদের পজিশন ছেড়ে না যাওয়ায় সেখানে কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে নগরিতে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন যা রংপুর কলেজ হোস্টেল বা মুসলিম ছাত্রাবাস হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তা প্রায় ১২ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও সেখানে ছাত্ররা বসবাস করছেন।

গণপূর্ত বিভাগ রংপুর অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সাফিউল আলম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে অনেকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো কোনো নির্মাণাদেশ না পাওয়ায় আমরা এসব ভবন ভেঙে ফেলে পুনঃনির্মাণ করতে পারছি না।

রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, যেসব ভবন নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ভবন মাঝারি মাত্রার ভূমিক¤প হলেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement