এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তিন দিন নীরব থাকার পর গতকাল শনিবার সকালে পাশে থাকা ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানের সঙ্গে অল্প কিছুক্ষণ কথা বলেছেন—চিকিৎসক ও পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্যে, আগের তিন দিনের তুলনায় তার অবস্থায় সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সার্বিকভাবে সংকটমুক্ত বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে কিডনির কার্যকারিতা ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ায় টানা চার দিন ধরে তাকে ডায়ালাইসিসে রাখতে হচ্ছে। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সচেতন থাকলেও তিনি সাড়া দিচ্ছিলেন না—এমনটিই আগে জানানো হয়েছিল।
এ অবস্থায় দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ এবং লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড নতুন করে তার বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিমানযাত্রার ঝুঁকি সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা তিনি অর্জন করেছেন কি না, সেটিই এখন মূল বিবেচনার বিষয়।
পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, গতকাল তার সামান্য কথা বলা চিকিৎসকদের কাছে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে ধরা পড়েছে। কিন্তু পাশাপাশি তারা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, যেকোনো সময় অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে।
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। গত রোববার হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি সিসিইউতে আছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। বিএনপি নেতারা শুক্রবার রাতে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিলেন।
এদিকে তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। কেউ কেউ ব্যানার নিয়ে দোয়া মাহফিলও করছেন, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের মাধ্যমে অনুরোধ জানিয়েছেন, নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করতে। এতে চিকিৎসায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্বস্তিতে পড়ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমান সবার দোয়া ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।































