রংপুরে অজানা রোগে আক্ৰান্ত হচ্ছে মানুষ

রংপুরে অজানা রোগে আক্ৰান্ত হচ্ছে মানুষ

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৯:৩৬, ২৯ আগস্ট ২০২৫

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অজানা বিরল রোগের আক্ৰান্ত   হচ্ছে মানুষ। পাশাপাশি একই উপসর্গে আক্ৰান্ত হচ্ছে গরম্ন। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে মানুষ। উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে অজানা এ রোগে অনেক মানুষ আক্ৰান্ত হয়েছে। প্রতিদিনই আক্ৰান্ত ব্যক্তিরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।

কৃষকগণ আক্ৰান্ত গরম্ন নিয়ে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে। লক্ষণ দেখে সংক্রামক রোগ অ্যানথ্রাক্স বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতিতে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স মহামারির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। একই উপসর্গ নিয়ে অনেক গবাদি পশু মারা যাওয়ায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই ১০ থেকে ১২ জন রোগী অজানা বিরল রোগের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসছেন। অনেক সময় একই পরিবারের সব সদস্য আক্ৰান্ত হচ্ছে।

এখনো পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় না হলেও অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গের সঙ্গে এ সংক্রমণের মিল পাওয়া গেছে। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সদর, তাম্বুলপুর, ছাওলা, পারম্নল, ইটাকুমারী ইউনিয়নের প্রায় ১০ থেকে ১২টি গ্রামের গবাদি পশু ও মানুষের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্ৰান্ত হয়েছে সদর, ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। এদিকে গবাদি পশুর খামারিরা আশঙ্কা করছে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বলেন, সময়মতো ভ্যাকসিন না আসায় ও রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অ্যানথ্রাক্স গরম্ন, ছাগল, মহিষ এ ধরনের প্রাণির মধ্যে প্রথম দেখা যায়।

আক্ৰান্ত পশু থেকে মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়তে পারে। মূলত দুই ধরনের অ্যানথ্রাক্স হলেও বাংলাদেশে যে অ্যানথ্রাক্স দেখা যায়, তা শরীরের বাইরের অংশে সংক্রমণ ঘটায়। এ ধরনের অ্যানথ্রাক্সে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোঁড়া বা গোটা হয়ে থাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আঁখি সরকার বলেন, প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী আসছেন। আক্রাšত¥দের কারো হাতে, গায়ে ক্ষতচিহ্ন দেখা দিচ্ছে। উপসর্গ দেখে মনে হচ্ছে, এটি অ্যানথ্রাক্স হতে পারে। এ অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক মন্ডল বলেন, পীরগাছা উপজেলায় সমস্যাটি বেশি দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরম্নত্ব সহকারে দেখছি। গত চার মাস ধরে ভ্যাকসিন ছিল না। যার কারণে গরম্ন-ছাগলকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার ভ্যাকসিন এসেছে। তা প্রয়োগ শুরম্ন হয়েছে। রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, এ রোগের বিষয়টি অবহিত হয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, যথাযথ চিকিৎসা নিলেই সুস্থ হওয়া সম্ভব রয়েছে।

BD/AN

শেয়ার করুনঃ
Advertisement