ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে আমরা একই মায়ের সন্তান-ড. রেজাউল করিম

Published : ১৬:৩০, ২৯ আগস্ট ২০২৫
জামায়াত ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন করে না বা সংখ্যালঘু কনসেপ্টেও বিশ্বাসী নয়; তাই আমরা ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি আজ লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে লক্ষ্মীপুর পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ড আয়োজিত স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মত বিনিময়ে কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। পৌর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড যুব বিভাগের সভাপতি আজিম উদ্দিন ও হিন্দু নেতা খোকন প্রমূখ।
মত বিনিময়ের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত অসুস্থ একজন হিন্দু ভাইয়ের চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজখবর নেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আমরা সকলেই বাংলাদেশী। আমাদের মধ্যে কোন প্রকার ত্মরবিন্যাস বা ভেদাভেদ নেই। মূলত, আমরা সবাই এক আদম থেকে সৃষ্টি হয়েছি। আমরা সবাই এক আলস্নাহর সূর্য, আলো, বাতাস ভোগ করি। বাংলাদেশের নতুন স্বাধীনতার জন্য মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার রক্ত, ত্যাগ ও অবদান রয়েছে।
তাই এ দেশ আমাদের সবার। আমরা একই মায়ের সšত্মান। মূলত, ধর্ম মানুষের মাঝে বিভেদ নয়, বরং নৈতিকতা ও মানবতার শিক্ষা দেয়। জামায়াত দেশে এমন একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় যে সমাজে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে কোন ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকবে না। সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি সে স্বপ্নের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে জামায়াতের হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, মূলত, বর্তমান সরকার ১৮ কোটি মানুষের সমর্থনের সরকার। তারা ক্ষমতায় আসার পর সংস্কার ও বিচারের পর নির্বাচনের প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন। সে প্রতিশ্রম্নতির অংশ হিসাবেই তারা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য কতিপয় সংস্কার কমিশন গঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে মত বিনিময়ও করেছেন।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনেক বিষয়েই ঐকমত্য হয়েছে। কিন্তু একটি বড় রাজনৈতিক দল এসব সংস্কারকে সাংবিধানিক বা আইনগত ভিত্তি দিতে চায় না। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার জন্যই রাষ্ট্রীয় সংস্কারগুলোকে সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে হবে। তিনি অতীতের নির্বাচনের নামে প্রহসনের কথা উলেস্নখ করে বলেন, আমরা অতীতের মত হাসিনা মার্কা নির্বাচন চাই না।
নির্বাচন হতে হবে অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। তিনি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক ও আইনী ভিত্তি দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
BD/AN