গাজায় ১০ জনের মৃত্যু, অপুষ্টির ঝুঁকিতে আরও লাখো শিশু

গাজায় ১০ জনের মৃত্যু, অপুষ্টির ঝুঁকিতে আরও লাখো শিশু

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:১১, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সতর্কবার্তা জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই পরিস্থিতির মধ্যে উপত্যকায় অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

তথ্যটি বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আল জাজিরা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু।

জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছেন, গাজায় দুর্ভিক্ষ এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রবেশ করতে না পারায় শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে না খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্মকর্তারা বলেছেন, গাজায় দুর্ভিক্ষ ও ব্যাপক ক্ষুধা “ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্ট মানবসৃষ্ট বিপর্যয়”।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক উপপ্রধান জয়েস মুসুইয়া জানিয়েছেন, উত্তর-মধ্য গাজা, বিশেষ করে গাজা সিটিতে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এটি দক্ষিণের দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনিসেও ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ অনাহার, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গাজার কার্যত কোনো মানুষই ক্ষুধার হাত থেকে বাঁচতে পারছে না।”

মুসুইয়া জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ হাজারেরও বেশি শিশু আগামী মাসগুলোতে জীবন-সংকটের মুখোমুখি হবে। তিনি বলেছেন, “এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। এটি সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট—একটি সংঘাতের ফলাফল, যা বিপুল প্রাণহানি, আহত, ধ্বংসযজ্ঞ এবং বাস্তুচ্যুতি ডেকে এনেছে।”

এর আগে বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় “দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে” আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনাহারে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে, যার মধ্যে ১১৯ জন শিশু।

অন্যদিকে, ইসরায়েল জাতিসংঘ সমর্থিত দুর্ভিক্ষ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসি–কে গাজার দুর্ভিক্ষ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এডেন বার টাল ওই প্রতিবেদনকে “ত্রুটিপূর্ণ, অপেশাদার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য প্রত্যাশিত মানের বাইরে” বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি ১৪ সদস্য দেশ আইপিসি–র প্রতিবেদনকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, “গাজায় দুর্ভিক্ষ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে” এবং “অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির” আহ্বান জানিয়েছে।

শিশু সুরক্ষা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন–এর প্রধান ইঙ্গার অ্যাশিং নিরাপত্তা পরিষদে বক্তৃতায় বিশ্বশক্তিগুলোর নীরবতাকে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “গাজায় দুর্ভিক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে—মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ। শিশুদের পরিকল্পিতভাবে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবেই ক্ষুধা ব্যবহার করা হচ্ছে।”

অ্যাশিং আরও বলেন, গাজার ক্লিনিকগুলোতে “শিশুরা এতটাই দুর্বল যে তারা ব্যথায় কাঁদতেও পারছে না। অনেকেই নিস্তব্ধ হয়ে আছে, ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেছেন, আগে শিশুদের আঁকায় শান্তি, শিক্ষা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন প্রতিফলিত হতো। এখন তারা শুধু খাবারের ছবি আঁকছে। সম্প্রতি অনেক শিশু এমনকি মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে। একজন শিশুর লেখা উদ্ধৃত করে অ্যাশিং জানিয়েছেন:
“ইশ, আমি যদি আমার মায়ের কাছে স্বর্গে থাকতে পারতাম। সেখানে ভালোবাসা আছে, খাবার আছে, পানি আছে।”

BD/AN

শেয়ার করুনঃ
Advertisement