মার্কিন শুল্কে ভারতে শিল্পসংকট: রপ্তানি বিপর্যয়ে বস্ত্র ও পোশাক শিল্প

Published : ২১:২৬, ২৮ আগস্ট ২০২৫
রাশিয়ার তেল কেনার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ভারতের শিল্পখাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই অতিরিক্ত শুল্কের চাপ সামলাতে ভারতের বস্ত্র ও পোশাক শিল্প কার্যত সংকটে পড়েছে, শিল্পীরা কর্মীদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রেও চিন্তায় রয়েছেন। এ অবস্থায় নয়াদিল্লি বিকল্প বাজার খুঁজছে, যাতে রপ্তানি ক্ষতি কমানো যায়।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা পিটিআইকে জানিয়েছেন, তারা বিশ্বের ৪০টি দেশে পৌঁছে ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাকের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, মেক্সিকো এবং রাশিয়া ও চীন। এই দেশগুলির বাজারে ভারতের বস্ত্র ও পোশাকের গুণমান, টেকসই এবং উদ্ভাবনী ডিজাইন তুলে ধরে রপ্তানি বাড়ানো হবে।
গত আর্থিক বছরে ভারত আমেরিকায় প্রায় ১০৮০ কোটি ডলারের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানি করেছিল। ৫০ শতাংশ শুল্ক বসার কারণে এই রপ্তানি বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ক্ষতিপূরণের জন্য ভারত এই উদ্যোগ নিয়েছে। দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থাগুলোও ৪০টি দেশে এই প্রচারণায় সমর্থন দেবে।
অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা ও সাবেক সাংসদ জহর সরকার ডিডাব্লিউকে বলেছেন, এই উদ্যোগ কিছুটা কার্যকর হলেও আমেরিকার বাজার ক্ষতি পুরোপুরি মিটবে না। তিনি বলেন, দেশের ভিতরের বাজারকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে। এছাড়া রপ্তানিতে ইনসেনটিভ দেওয়া, কারগো খরচ কমানো এবং আরসিইপি বা রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপের মতো চুক্তিতে যুক্ত হওয়াও একটি বিকল্প।
যোজনা কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা অমিতাভ রায় মন্তব্য করেছেন, বিদেশি বাজারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া দরকার, তবে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার মতো দেশগুলোর বাজার তুলনামূলকভাবে ছোট। রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব ভালো নয়। তাই দেশীয় বাজারকেও আরও সম্প্রসারিত করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতীয় পোশাকের খরচ কমিয়ে দেশীয় বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে, যাতে শ্রমিক ও উৎপাদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
সংক্ষেপে, মার্কিন অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব সামলাতে ভারতের শিল্পখাত নতুন বাজার খুঁজছে, পাশাপাশি দেশের ভেতরে বাজার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছে।
BD/AN