ভারতের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

ভারতের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১২:০২, ২৯ আগস্ট ২০২৫

ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে তুলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে—ভারত রোহিঙ্গাদের জীবন সরাসরি মৃত্যুঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ মে ভারতের রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ রোহিঙ্গাকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার কথা বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে তাদের আটক করা হয়। পরে ইন্দরলোক আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এর পরদিন, ৭ মে, বিমানযোগে তাদের আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাসে করে সরাসরি নৌবাহিনীর এক যুদ্ধজাহাজে তুলে দেওয়া হয়।

শরণার্থীরা অভিযোগ করেন, জাহাজে তাদের হাত প্লাস্টিক দিয়ে বাঁধা হয়, চোখ-মুখ ঢাকা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এক শরণার্থী বলেন—“আমাদের বন্দির মতো আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বাঁশ দিয়ে খোঁচানো হয়েছে।”

তাদের দাবি, ৮ মে সন্ধ্যায় ছোট রাবারের নৌকায় তুলে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়। বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন, কিন্তু আসলে সেটি ছিল মিয়ানমার। পরদিন স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার করলে তারা বর্তমানে জান্তাবিরোধী বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর আশ্রয়ে রয়েছেন।

এই ঘটনার পর ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে তীব্র ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। দিল্লিতে থাকা রোহিঙ্গা যুবক নুরুল আমিন বলেন—“আমাদের ভেতরে এখন শুধু ভয়। যে কোনো সময় ভারত সরকার আমাদেরও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে।”

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরও বলা হয়, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও তাদের জেরা করা হয়েছে। খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয় কেন তারা ইসলাম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছেন, এমনকি শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, এ অভিযোগের পক্ষে তার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। সেগুলো জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে জমা দেওয়ার পরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিষয়টি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে গড়িয়েছে। এক বিচারপতি যদিও অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে—যেখানে সিদ্ধান্ত হবে রোহিঙ্গাদের মর্যাদা হবে শরণার্থী নাকি অবৈধ অভিবাসী।

BD/AN

শেয়ার করুনঃ
Advertisement