প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করা যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যান। গতকাল সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই সাবেক মার্কিন কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় তারা বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ বা সত্য ও মীমাংসা প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব কি না—সে বিষয়ে তার মতামত জানতে চান।
জবাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়াটি কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগ এখনো তাদের সংঘটিত অপরাধ অস্বীকার করে যাচ্ছে।
ড. ইউনূস বলেন, সময় এখনো উপযুক্ত নয়। ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই কার্যকর হয়, যখন কেউ নিজের ভুল ও অপরাধ স্বীকার করে, অনুতাপ ও অনুশোচনা প্রকাশ করে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এখন পর্যন্ত কোনো অনুশোচনার ইঙ্গিত দেননি।
বরং তারা জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত তরুণদের মৃত্যু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফল বলে দাবি করছে, যদিও এসব ঘটনার পক্ষে বিপুল প্রমাণ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংঘটিত ঘটনাগুলো ছিল সম্পূর্ণ বর্বরোচিত অপরাধ, তবুও তারা তা অস্বীকারের অবস্থানেই রয়েছে।
এ সময় বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।





























