এবার ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নিয়ে আসছে তিন দেশ

এবার ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নিয়ে আসছে তিন দেশ ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:২৮, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে সম্প্রতি তুরস্ক যুক্ত করে নতুন মাত্রায় উন্নীত করা হয়েছে। এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা হচ্ছে, যা মূলত ন্যাটোর ‘সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতি’ অনুযায়ী কার্যকর হবে।

এর অর্থ হলো, কোনো এক সদস্য দেশের বিরুদ্ধে যদি কোনো আগ্রাসন ঘটে, তবে তা অন্য সব সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির কাঠামো ন্যাটোর সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে। তবে এটি শুধু সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; তুরস্ককে যুক্ত করার মাধ্যমে এর ভৌগোলিক এবং কৌশলগত পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করবে, পাকিস্তান পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রশিক্ষিত জনবল যোগ করবে, আর তুরস্ক সরবরাহ করবে সামরিক দক্ষতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রযুক্তি। আঙ্কারার থিংক ট্যাংক ‘টেপাভে’-এর কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসরায়েল ও নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন আঞ্চলিক দেশগুলো নতুন নিরাপত্তা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কৌশলগত স্বার্থ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার নির্দিষ্ট অঞ্চলে ক্রমেই সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছে। এর ফলে এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোটের গঠন স্বাভাবিক ও যৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রথম যৌথ নৌবাহিনী বৈঠকেও তিন দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ইঙ্গিত প্রকাশ পেয়েছে।

তুরস্কের গুরুত্ব এই জোটে বিশেষ। কারণ, তুরস্ক শুধু একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সদস্য এবং ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত। সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয়ই ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে তারা সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেয়। এছাড়া, সিরিয়ার স্থিতিশীলতা এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতেও তারা একমত।

অন্যদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বহুদিনের। তুরস্ক ইতোমধ্যে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ তৈরি করেছে, এফ-১৬ বিমান বহর আধুনিক করেছে এবং উভয় দেশ ড্রোন প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে। এছাড়া, তুরস্ক তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ প্রকল্পে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

এই ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা আলোচনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে চারদিন ব্যাপী উত্তেজনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যেখানে তুরস্ক পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

এই নতুন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ জোট আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য এবং জোট নির্মাণে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement