তিন সরকারের শপথ পড়িয়ে নজির গড়লেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
Published : ১৭:৪২, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনি তিনটি ভিন্ন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন—যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান–কে শপথবাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরও শপথ গ্রহণ করান তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা–র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের শপথ অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
সাধারণত একজন রাষ্ট্রপতি তার মেয়াদকালে এক বা দুইবার মন্ত্রিসভার শপথ পড়ান। কিন্তু মাত্র তিন বছরে তিনটি আলাদা সরকারের শপথ পড়িয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন এক রাজনৈতিক ইতিহাস তৈরি করলেন।
এদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রায় দুই দশক পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করল দলটি। বর্তমান বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ৫০ জন—এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী (তিনজন টেকনোক্র্যাট) এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।
এবারের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন অনেক নতুন মুখ—যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। এমনকি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতার সংখ্যাও কম নয়।
২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৭ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ২৪ জনই প্রথমবার দায়িত্ব পেলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন।
মন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।
প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন যারা—
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
বিডি/এএন


























