শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত সেক্রেটারি নিহত

শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত সেক্রেটারি নিহত ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ২২:৪৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

জানা গেছে, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চে চেয়ারে বসা নিয়ে বিরোধ থেকে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

বুধবার দুপুরে উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্বঘোষিত এ অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা উপস্থিত হন। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেলসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। এ সময় সামনের সারিতে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী–সমর্থকের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের দলের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছে। তাদের পূর্বপ্রস্তুত হামলার ফলে বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বসাকে কেন্দ্র করে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement