রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত নাসরুল্লাহ, তিন সন্তান নিয়ে দিশাহারা পরিবার
Published : ১৩:০৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের মুফতি নাসরুল্লাহ আল-বদর (৩৫)। তাঁর মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর ওলামা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করতেন।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের রোববার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। সে সময় সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। নিহত দুই বাংলাদেশির একজন নাসরুল্লাহ। অপরজন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ।
জেদ্দা যাওয়ার প্রস্তুতির সময় হামলা
নাসরুল্লাহর বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর জানান, শনিবার সকালে মাদ্রাসার ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে নাসরুল্লাহর নেতৃত্বে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়।
তিনি বলেন, প্রথমে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান নাসরুল্লাহ। পরে জেদ্দা যাওয়ার জন্য বোর্ডিংয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। দলের সবার দায়িত্বে থাকায় তিনি সামনের দিকে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে জেদ্দা হয়ে পবিত্র মক্কায় গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের।
আহসান উল্লাহ বদরের ভাষ্য অনুযায়ী, নাসরুল্লাহর মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাত সামনে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেননি।
নাসরুল্লাহর ভাই জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া শুরু হয়। রোববার বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পরিবারকে তাঁর মৃত্যুসনদ পাঠান।
স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে উদ্বেগ
নাসরুল্লাহ রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে স্ত্রী মাহবুব আক্তার ও সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে সাত বছর বয়সী ছেলে জামিল হাসান, পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে নাবিলা আক্তার এবং দুই বছর বয়সী ছেলে মো. জাওয়াদ রয়েছে।
নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা নাঙ্গলকোটের বদরপুর গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন।
নাসরুল্লাহর বড় ভাই আহসান উল্লাহ বদর সরকারের কাছে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নাসরুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ছেলের সঙ্গে শেষবার যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ পাননি। পরে রোববার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।


































