পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, দুদিন পর নদীতে মিলল কলেজছাত্রের মরদেহ
Published : ১৬:৫২, ২০ অক্টোবর ২০২৬
মায়ের সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফেরার পর পোশাক বদলে আবারও পূজা দেখতে বের হয়েছিলেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী কৌশিক সাহা জিতু (২৩)। যাওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পকেটে নিয়েছিলেন বাড়ির গেটের চাবি। তবে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তার। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর ফরিদপুরের কুমার নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মরদেহ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষ্মীপুর এলাকার মদনখালী স্লুইসগেট সংলগ্ন কুমার নদ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে মায়ের সঙ্গে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফেরেন কৌশিক। পরে পোশাক পরিবর্তন করে আবারও মণ্ডপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় বাড়ির গেটের চাবি পকেটে রয়েছে বলে মাকে জানিয়ে যান তিনি। কিন্তু রাতে আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা কুমার নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। সে সময় মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।
খবর পেয়ে কৌশিকের বাবা কমলেশ সাহাসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে যান। পরনের টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে তারা প্রাথমিকভাবে মরদেহটি শনাক্ত করেন। পরে পকেটে পাওয়া বাড়ির গেটের চাবিটি পরিচয় নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় প্রথমে শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে পকেটে থাকা চাবিটি কৌশিকের বাড়িতে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ওই চাবি দিয়ে বাড়ির তালা খোলায় তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান এবং সিআইডি ও পিবিআইয়ের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।






























