সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের কাছাকাছি পুলিশ
Published : ১৭:৪৮, ২০ অক্টোবর ২০২৬
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তদন্তের স্বার্থে জড়িত ব্যক্তিদের নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এক সন্দেহভাজনকে প্রথমে এক দিন এবং পরে আরও চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনা শহরের শিববাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ডিআইজি।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত রাতেও পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ভোর ৪টার দিকে বার্তা পাঠিয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশকে প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
ডিআইজি আরও বলেন, নেত্রকোনা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় অপরাধ সংঘটনের পর অনেক সময় অপরাধীরা সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এতে আসামিদের গ্রেপ্তারে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। তবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে। মামলাটির তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) যুক্ত করা হয়েছে। তারা ছায়াতদন্তের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে সহযোগিতা করছে।
মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, “আমরা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। তদন্তের স্বার্থে জড়িতদের নাম এখনই প্রকাশ করছি না।” দ্রুততম সময়ে মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে ধৈর্য ধরে কাজ করার সুযোগ দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডিআইজি জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক সভা করা হয়েছে। নেত্রকোনায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা জোরদারে এক প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েন করা হয়েছে।
এ সময় নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম এবং নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে দুর্গাপুর পৌর শহরের মধ্যবাজার এলাকায় পুরোনো সিনেমা হলের সামনে থেকে মামলার সন্দেহভাজন আসামি সাজিবুল ইসলাম অপূর্বকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন স্থানীয় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ছয়টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।






























