খাগড়াছড়িতে রাতভর গোলাগুলি-সংঘর্ষ, নিহত যুবক ৩
Published : ১৭:০০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে মোহাম্মদ মামুন নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পাহাড়ি এলাকা। গতকাল দীঘিনালায় এ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় দুপক্ষ।
ওইদিন বিকেল ও রাতে দীঘিনালা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মিছিল নিয়ে লারমা স্কয়ারের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেয় আরেকপক্ষ। এরই জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এতে ধনরঞ্জন ত্রিপুরা, রুবেল ত্রিপুরা ও জুরান চাকমা নামে ৩ যুবক নিহত হন। আহত হন আরো অন্তত ২০ জন।
আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক যুবক বলেন, একজনকে আটকে রেখেছি। আমরা যখন তাকে আনতে যাই, তখন আমাদের ওপর গুলি চালায়।
খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিপল বাপ্পি চাকমা জানান, হাসপাতালে ১২ জন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ৩ জন এখানে এসে মারা গেছেন।
বর্তমানে ৯ জন এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর বাইরে ৪ জনকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছিল। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ সকালে সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনীর দীঘিনালা সেনা জোনের অধিনায়ক।
তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সংঘর্ষের সূত্রপাত উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের আশ্বাস দেন তারা। পাশাপাশি পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী তৎপর বলেও জানান তারা।
সেনাবাহিনীর দীঘিনালা সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওমর বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে টহল জারি রেখেছি।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. শহীদুজ্জামান বলেন, তারা কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার চেষ্টা করা হবে। একটা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য জেলায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্যও আমরা কাজ করছি।
বিডি/ও






























