ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, নিহত ১, আহত ৫০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য
Published : ১৯:১২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও সরকারি পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। শনিবার রাতের সংঘর্ষে সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, দোকানে লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন পুলিশের ৫০০ জনের বেশি সদস্য। এ ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দিনের আলোয় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় রাতভর সংঘটিত সহিংসতার ক্ষয়ক্ষতি সামনে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রাতটিকে অন্যতম সহিংস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্যারিসে শনিবার রাতে বিক্ষোভ শেষ হওয়ার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একদল তরুণ বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরু সড়কগুলোতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ চালায়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সহিংসতায় ৫০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই এ ধরনের অস্থিরতাকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।’
এদিকে, প্যারিসের উত্তরে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। প্যারিস পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাতে রোববার এ খবর প্রকাশ করে সিএনএনের সহযোগী সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তির হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় লিমোজ শহরে শনিবার ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবনটির চূড়া ধসে পড়তে দেখা যায়। মার্সেইয়ে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে ভাঙচুর চালান। অন্যদিকে, লিওঁ শহরের পর্যটন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা নিয়ে আইনপ্রণেতা ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সমালোচনা বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামত এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছেন প্যারিস, লিওঁ ও মার্সেইয়ের মেয়ররা। এ পরিস্থিতিতে মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর।

































