জুলাই সনদের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে: চিফ হুইপ
Published : ১০:৪৩, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর হয়েছে, তার সবই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সনদের কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা সংশোধন করেই বাস্তবায়ন করা হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। সনদে যা স্বাক্ষর হয়েছে, তার প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হলে সে পথেই এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চায় বলেও জানান তিনি।
তৃতীয় অধিবেশনে ছয় বিল পাস
নূরুল ইসলাম মনি জানান, জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন নয়টি কার্যদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া এ অধিবেশনে ছয়টি বিল উত্থাপন ও ছয়টি বিল পাস হয়েছে।
এ ছাড়া সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিশ ও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে তিনি নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।
বাবা-মায়ের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করবে নতুন আইন
তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর ও সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংক্রান্ত আইনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট সমাধানে সময় প্রয়োজন
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, আন্দোলন বা লংমার্চ করে তাৎক্ষণিকভাবে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে কমপক্ষে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। তাই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকারকে সময় দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আগের সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে বিভিন্ন চুক্তি ও ক্যাপাসিটি চার্জের কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয় বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানান চিফ হুইপ।
পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধের দাবি
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
কৃষকদের জন্য সার ও কৃষক কার্ড
কৃষকদের সহায়তায় কৃষিঋণ ও কৃষক কার্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। এতে বিপুলসংখ্যক কৃষক পরিবার উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন সার অতিরিক্ত রয়েছে। সার ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
১০১টি সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা
বিদেশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে সরকার আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে বলে জানান চিফ হুইপ। এসব চুক্তির আর্থিক দিকও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো দেশকে শত্রু হিসেবে না দেখে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থায়ী কমিটিতে বিরোধীদের প্রতিনিধিত্ব
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২২টিতে বিরোধী দলের তিনজন করে সদস্য এবং অন্য কমিটিগুলোতে দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ের ওপর নজরদারি করা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সভাপতি পদটি বিরোধী দলের সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকার-বিরোধী দলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে
সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়েনি; বরং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও ইচ্ছা করলে এককভাবে আইন পাস করতে পারে। কিন্তু সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ এগিয়ে নিতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি কোনো একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
দেশকে স্বাবলম্বী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিরোধী দলসহ সবার সহযোগিতা চান চিফ হুইপ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ সময় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) উপস্থিত ছিলেন।





























