দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা, প্রস্তুত সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল
Published : ১৭:৫৮, ১১ অক্টোবর ২০২৬
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজার আগে, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে এ তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
আইজিপি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।
গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অব্যাহত রাখতেও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পূজা ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলোর নির্দেশনা
নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়।
দুর্গাপূজার সময় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, সিআরটি, কিউআরটি, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু রাখা হবে।
নিরাপত্তা সভায় পুলিশ ও পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা
সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
সভায় উপস্থিত নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।





























