দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৫:৪৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে ঢাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনা ও নিরাপদ ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগও রয়েছে, তবে এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরব্যবস্থার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগরব্যবস্থার অভাবে দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। তাই বাড়িঘর নির্মাণে নিয়ম মেনে চলা, নগর ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং নদীদূষণ রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

কাঠমান্ডু ও তেহরানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থা না থাকলে দুর্যোগে প্রাণহানি অনেক বেড়ে যেতে পারে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, খরা, বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের মতো নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির সঙ্গে বসবাস করছে।

১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কথা স্মরণ করে তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। ওই দুর্যোগের উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কতটা ভয়াবহ হতে পারে এবং এর জন্য একটি রাষ্ট্রকে কত বড় মূল্য দিতে হতে পারে, তা ১৯৭০ সালের ঘটনা থেকে বোঝা যায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement