কৃষিকে লাভজনক করতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

কৃষিকে লাভজনক করতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৪:৫৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কৃষিখাতকে লাভজনক করতে সরকারকে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দিতে হবে এবং কৃষকদের সহায়তা বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিলেও কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে কৃষিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষির যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে, গবেষণার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। উৎপাদনের পর কৃষক ন্যায্য দাম পান না। আবার ফসল ফলানোর সময় বেশি দামে বীজ কিনতে হয়। ফলে কৃষি থেকে প্রত্যাশিত আয় করতে পারছেন না অনেক কৃষক।

তিনি বলেন, কৃষি এখন আর লাভজনক পেশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো আয় না থাকায় মাঠে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ফল ও সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে পেঁয়াজ চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে, ফলে এখন আর আগের মতো আমদানির প্রয়োজন হয় না। ফল উৎপাদনেও বাংলাদেশ এগিয়েছে, তবে উৎপাদিত পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণব্যবস্থায় আরও উন্নতি প্রয়োজন। জমিতে সার ব্যবহারের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের কারণে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

কৃষিবিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে হলেও তাঁদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সবাই ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে সাফল্য অর্জন সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় দেশের কৃষিখাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিপণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। দেশে অনেক পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে; এখন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। একই সঙ্গে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে উন্নত কীটনাশক উদ্ভাবনে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement