ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
Published : ২০:৩৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। এ উপলক্ষে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। ধর্মীয় কল্যাণমূলক অনুদান ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর এবং সমন্বিত উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
দুর্গাপূজাকে বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উল্লেখ করে তিনি বলেন, শরতের নির্মল আকাশ, শুভ্র কাশফুল ও উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের মনে নতুন আশা ও কল্যাণের প্রত্যয় জাগায়। দুর্গোৎসবের অন্তর্নিহিত বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। অন্যায়, অসত্য ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার চিরন্তন আহ্বানও এ উৎসবের মূল শিক্ষা।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় আবহমানকাল ধরে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এর সঙ্গে বাংলার সমাজ-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এ উৎসব সমাজের সব স্তরের মানুষকে সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।
দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্ভয়ে, স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে সবাইকে নিবেদিত হতে হবে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্য, বঞ্চনা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সবার দায়িত্ব।
দুর্গোৎসবের আনন্দ অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সব ভেদাভেদ ভুলে মানবতা, ন্যায় ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সবার ঘরে ঘরে। বাণীতে তিনি দেশে ও বিদেশে দুর্গোৎসব উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
































