ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
Published : ১২:২০, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যালোচনায় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শন করেন তিনি।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন। এ সময় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচার কক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উন্নয়নের জন্য সাত দিনের সময় দেন।
পরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকে মারা যান। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম। এ জন্য বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্ম সম্মিলিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বড় শহর, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হওয়া-না হওয়া নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ময়লা ফেললে তাঁকে সচেতন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। এসব ডাস্টবিন ও গাছের চারা সংরক্ষণে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
































