স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার দায় ইশরাককে নিতে হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
Published : ১৪:৩৫, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে নিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিভিন্ন স্থানে তাঁর দলের নেতাকর্মীরা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, ইশরাক নতুনভাবে রাজনীতিতে নেমেছেন এবং মাদকের বিস্তার বন্ধ করার উদ্দেশ্য তাঁর ভালো ছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করলে অন্য একজনকে তার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো নেই। গত তিন-চার মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাইয়ের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁদের ক্ষোভ ও কষ্টকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, সব কর্মকাণ্ডে এমনভাবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ কষ্ট না পান বা আহত বোধ না করেন। এ বিষয়ে কথা বলার কারণে তাঁকে যেন ‘শাহবাগী’ কিংবা ‘হিন্দুদের নতুন ভার্সন’ বলে আখ্যা দেওয়া না হয়, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরতে বলেছেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে তাঁদের উদ্বেগ ও অভিযোগ শুনতে হবে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি দূর করা সম্ভব হবে।
































