মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহযাত্রী

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন শ্রমিক, অন্যজন ওমরাহযাত্রী ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৭:১৫, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ পালন করতে দেশটিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আকাশপথে যোগাযোগ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের লাগেজ বহনের সুবিধার্থে ২০০টি ট্রলি হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাঁদের পরিচয় ও মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে এ তথ্য জানান।

এর আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করা হয়েছে। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেলের প্রতিবেদনে তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার বলে উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাঁদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করে অভিযোগ গঠন করে। পরে আদালতে বিচার শেষে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগে বাংলাদেশ সরকারকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানার পর দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। বৃহস্পতিবার পাঠানো ওই চিঠির তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কনস্যুলেট-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা জানান, দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি মিশনের নজরে আসে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যে ওই দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য ছিল না। তাঁদের পাসপোর্ট, আকামা ও নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও সেই রায় বহাল রাখে।

তবে ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তাঁরা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা কনস্যুলার সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাঁর অনুরোধে আটককারী দেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে অবিলম্বে অবহিত করতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে অবহিত করার অনুরোধ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে থেকে বাংলাদেশ মিশনকে অবহিত না করার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সৌদি কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়া গেলে তাঁদের পরিচয় ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement