নতুন সরকারের শপথে আসছেন ১৩ দেশের সরকারপ্রধান
Published : ১২:৩২, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জনের মাধ্যমে এককভাবে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময়সূচিও চূড়ান্ত হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঐতিহাসিক এই দিনটিকে ঘিরে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনে নয়—দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ও প্রটোকলসংক্রান্ত নানা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। ফল ঘোষণার পরপরই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নবগঠিত মন্ত্রিসভাই হবে দেশের নতুন সরকার। সে সময় পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বিডি/এএন





























