জাহাঙ্গীরনগর জাকসুতে প্রথমবারের মতো বিদেশি প্রার্থী

Published : ২৩:০৭, ২৯ আগস্ট ২০২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জাকসু নির্বাচনে এবার ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন নেপালের শিক্ষার্থী মো. আবিদ হুসাইন। প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী প্রার্থী হয়েছেন এই নির্বাচনে। তার প্রার্থিতাকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন সহপাঠী ও বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরাও।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তিনি থাকেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে। আবিদের বাড়ি নেপালের বারা জেলায়; তিন ভাই ও দুই বোনের পরিবারে তিনি বড় হয়েছেন। নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে আবিদ হুসাইন বলেন,
“জাহাঙ্গীরনগরে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করেও বেকার। শুধু ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনও দরকার। যেমন বিদেশে পড়তে গেলে আইইএলটিএস বা জিআরই লাগে। এগুলোর জন্য ছাত্ররা বাইরে গিয়ে অনেক টাকা খরচ করে। কিন্তু সবার অর্থনৈতিক অবস্থা সমান নয়। অথচ বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। এসব কোর্স জাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা গেলে ছাত্রদের অনেক উপকার হবে। প্রয়োজনে অর্থাভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য তহবিলও গড়া যেতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীকে মানবসম্পদে পরিণত করা, কিন্তু সে জায়গায় ঘাটতি আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আবিদের ভাষায়,
“আমরা দিন দিন শিক্ষিত হচ্ছি ঠিকই, কিন্তু দক্ষতা ছাড়া শিক্ষিত হচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপ দিতে চান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রশ্নেও কঠোর অবস্থান নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার মতে,
“বন্ধের দিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে ইকোপার্ক হতে দেওয়া যাবে না।”
জাকসুর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, এই পদে মোট আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আবিদের বিপরীতে আছেন ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলের আবরার হক বিন সাজেদ, যিনি ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক।
প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও আবরার নেপালি শিক্ষার্থীর প্রার্থিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন,
“তিনি বিদেশি। জাহাঙ্গীরনগরের নির্বাচনে অন্য দেশের নাগরিক অংশ নিচ্ছেন—এটা আমাদের কাছে ইতিবাচক। জাহাঙ্গীরনগর বৈশ্বিক ও সবার জন্য উন্মুক্ত—তারই প্রমাণ আবিদ। আমি তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, ইতিবাচক প্রার্থী হিসেবে দেখি।”
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী বলেন,
“আমরা তাকে বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে দেখছি না। অন্য সবার মতোই তিনি জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র। আমাদের দেশের ছাত্ররাও তো অন্য দেশে গিয়ে ভোট দেয়।”
খুশি প্রাক্তণরাও
আবিদের প্রার্থিতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিভাগের সাবেক নেপালি শিক্ষার্থীরাও।
ফার্মেসি বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সন্তোষ চৌধুরী, বর্তমানে নেপালের একটি ওষুধ কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক, বলেন,
“আবিদ আর আমার বাড়ি একই জেলায়। তাকে নিয়ে আমি গর্বিত। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানোটা সাহসী পদক্ষেপ। নেপাল থেকে যারা জাবিতে আসবে তাদের জন্য আবিদ হবে ভরসার জায়গা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত—এটা আনন্দের।”
একই বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আনসারী এখন কাতারে একটি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করছেন। তিনি বলেন,
“আমাদের সময়ে জাকসু ছিল না। আর এখন একজন নেপালি শিক্ষার্থী প্রার্থী হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের। আবিদ শুধু নেপালি নয়; সবার ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও তাকে নিজেদের একজন হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আবিদ নির্বাচনে জয়লাভ করলে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে।”
এছাড়া নেপাল থেকে আসা শিক্ষার্থী শামিও আবিদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
জাকসুর প্রচারণা শুরু হবে ২৯ আগস্ট থেকে, চলবে ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শেষে সিনেট হলে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
BD/AN