ঢাকার কেরানীগঞ্জে সম্প্রতি ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড, যা পুরো এলাকায় সন্ত্রাসের ছাপ ফেলেছে। ঘটনার মূল রহস্য হলো, মা-মেয়েকে একসঙ্গে হত্যা করে ২১ দিন ধরে তাদের লাশ ফ্ল্যাটে রেখে দোষীদের পরিবার নির্বিঘ্নে বসবাস করেছিল।
এই shocking কাণ্ডটি ঘটেছে নুসরাত মীম নামে ২৪ বছর বয়সী এক শিক্ষিকার ফ্ল্যাটে।
ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন স্কুলছাত্রী জোবাইদা রহমান (১৪) এবং তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। খবর পাওয়ার পর ১৬ জানুয়ারি রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করা হয়। কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার ফ্ল্যাট থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নুসরাত মীম, তার স্বামী হুমায়ুন মিয়া (২৮) এবং নুসরাতের ১৫ ও ১১ বছর বয়সী দুই বোনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নুসরাতের পরিবার নুসরাতের নেওয়া ১.৫ লাখ টাকার ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত চাপের কারণে রোকেয়ার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।
২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে নুসরাতের বাসায় গেলে নুসরাতের ছোট বোনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নুসরাতের ছোট বোন ফাতেমাকে গলা চেপে হত্যা করে। পরে, প্রায় দুই ঘণ্টা পর নুসরাত ফাতেমার মাকে ফোন করে মেয়ের অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে। এরপর নুসরাত ও তার ছোট বোন মিলে রোকেয়ার গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাশ দুটি ফ্ল্যাটে রেখেই অভিযুক্তরা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সেখানে বসবাস চালিয়ে গিয়েছিল। ফাতেমার লাশ ছিল শৌচাগারের ফলস সিলিংয়ের ভেতরে এবং রোকেয়ার লাশ শোবার ঘরের বক্স খাটের নিচে লুকানো।
অভিযুক্ত নুসরাত ও তার ছোট বোনকে ইতোমধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু নুসরাতের ছোট বোন নাবালিকা, তাই তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
এই ঘটনায় পুরো কেরানীগঞ্জ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়রা অত্যন্ত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পুলিশের তৎপরতায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, পুরো ঘটনায় পরিবারের অমানবিক আচরণ এবং লাশ ফ্ল্যাটে রেখে বসবাসের ঘটনা সমাজকে গভীরভাবে চিন্তিত করেছে।
আপনি চাইলে আমি এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত ও সংবাদের মতো করে ৮–১০টি হুবহু শিরোনামেও তৈরি করতে পারি। আপনি কি সেটা চাইবেন?




























