রংপুর-২ আসনে ত্রি-মুখি লড়াইয়ের সম্ভবনা

রংপুর-২ আসনে ত্রি-মুখি লড়াইয়ের সম্ভবনা ছবি: সংগৃহীত

রংপুর প্রতিনিধি

Published : ১৬:৪০, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

রংপুর-২ আসনে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির মধ্যে ত্রি-মুখি লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থী দলটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও বর্তমান নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।

বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মন্ডল।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। এ আসনের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী সরকার ও এটিএম আজহারুল ইসলামের সঙ্গে তীব্র লড়াই হবে আনিছুল ইসলাম মন্ডলের। তবে জামায়াতের কোনো প্রার্থী দেশ স্বাধীনের পরে এই আসনে নির্বাচিত হতে পারেননি।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাঠে আলোচনায় থাকলেও তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে। আবার বিএনপি প্রার্থীর পথের কাঁটা,হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী।রংপুর-২ আসনে সর্বাধিকবার নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীসহ তার দলের প্রার্থীরা। এখানে দলটির ভোট ব্যাংক রয়েছে। সেই ভোট ব্যাংকই এখন সবার লক্ষ্য।

জামায়াত এ আসনে তরুণ ও নারী ভোটারদের টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারী কর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠে বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। তারা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। ভোটের ইশতেহারমূলক প্রচারণাপত্র তুলে দিচ্ছেন। তবে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিই প্রচারণায় বেশি সরব। অন্যদিকে নীরবে প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। এটি দলটির কৌশল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের প্রার্থী থাকলেও তাদের প্রচারণা তেমন দেখা যাচ্ছে না। এ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন না। তাকে বিএনপির প্রার্থীর পথের কাঁটা বলে মনে করা হচ্ছে।

তিনি বদরগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। দলের নেতাকর্মীদের ওপর যেমন তার প্রভাব রয়েছে, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও তার প্রভাব রয়েছে। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

জামায়াতের প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম এ আসনে তার জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, নুতন প্রজন্ম দুর্নীতিমুক্ত, ইসলামের আলোকে ন্যায় ও সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন দেখেছে, তার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সরকার ছিল।

তারা কেউই দেশের মানুষের সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করতে পারেনি। তা পরীক্ষিত। এবারের তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ জামায়াতকেই ভোট দেবে। সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসাবে সবসময় তৃণমূলের মানুষের পাশে ছিলাম।

তাদের আস্থা ও ভালোবাসা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলের নিরপেক্ষ জরিপ এবং তৃণমূলের অভিমত অনুযায়ী আমার চেয়ে যোগ্য প্রার্থী আর কেউ নেই। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি মনে করেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আশাবাদী।

তিনি নির্বাচনে ধানের শীষের জয়লাভের প্রত্যাশা করেন। ভোটের মাঠের অবস্থা স¤পর্কে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল বলেন, রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গ। দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তা এখনো বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের মানুষ মনে রেখেছে। জাতীয় পার্টির শাসনামলে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। দুর্নীতি হয়নি। বন্যায় আনাহারে মানুষ মারা যায়নি।

মানুষ জাতীয় পার্টির সেই শাসনামল আবার দেখতে চায়। তিনি মনে করেন, ভোটাররা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেবেন। রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ)  আসনে ভোটার ছিল ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৪৬ জন। বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ৯২১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৬২৫ জন ও পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৯২ হাজার ২৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। ভোটার বেড়েছে ২৩ হাজার ৮৭৫ জন। ভোটাররাই হতে পারেন জয়-পরাজয়ের নির্ধারক।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement