ব্যয় বাড়লেও খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না রেস্তোরাঁ মালিকরা
Published : ১৮:৫২, ৩ অক্টোবর ২০২৬
চাল-ডাল থেকে শুরু করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, বাড়িভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি—রেস্তোরাঁ পরিচালনার প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে। তবে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কায় সেই অনুপাতে খাবারের দাম বাড়াতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। এতে দেশের অনেক রেস্তোরাঁয় বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনের একটি হোটেলে রেস্তোরাঁ খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় সংগঠনটি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।
সংগঠনের নেতারা বলেন, খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, পরিবহন, বাড়িভাড়া ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে। কিন্তু ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী চাপের মধ্যে রয়েছেন।
ইমরান হাসান অভিযোগ করেন, খাবারের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তার মতে, খাবারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাঁচামালের ক্রয়মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
রেস্তোরাঁ খাতের সংকট কাটাতে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে খাবারের দাম সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর প্রত্যাহার, একক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু।
সংগঠনটির দাবি, একটি রেস্তোরাঁ চালু ও পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে ১০ থেকে ১২ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ে। এ সমস্যা কমাতে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত লাইসেন্স ও তদারকি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
এ ছাড়া রেস্তোরাঁ খাতে বর্তমানে থাকা ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি ও অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা।
অনিবন্ধিত রেস্তোরাঁ এবং স্ট্রিট ফুড ব্যবসাকেও ভ্যাটের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মালিক সমিতি বলেছে, এতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ব্যবসার মধ্যে প্রতিযোগিতায় সমতা তৈরি হতে পারে।
অভিযান ও জরিমানার ক্ষেত্রেও সমন্বিত ব্যবস্থা চেয়েছে সংগঠনটি। রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনার সময় মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধিকে সঙ্গে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নেতারা।
এদিকে গরুর মাংসের দাম কমাতে সীমিত পরিসরে মাংস আমদানির অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, আমদানির সুযোগ তৈরি হলে সরবরাহ বাড়তে পারে এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি রেস্তোরাঁর উৎপাদন ব্যয় কমাতেও সহায়তা হতে পারে।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি আরও এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, লোডশেডিং কমানো, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি বন্ধ এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
































