ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তেহরান কর্তৃপক্ষ তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
যদি এটি কার্যকর হয়, তবে এটি বর্তমান গণআন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিক্ষোভকারীর প্রথম ফাঁসির ঘটনা হিসেবে ধরা হবে। তবে ইন্টারনেট ও যোগাযোগের অপ্রাপ্যতার কারণে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা এখনও কঠিন। এই খবরটি প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ।
২৬ বছর বয়সী এই বিক্ষোভকারীর নাম এরফান সোলতানি। মানবাধিকার সংস্থা আইএইচআরএনজিও এবং এনইউএফডি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কারাজ শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
গ্রেপ্তারের পর তার পরিবারকে জানানো হয়েছে যে ১৪ জানুয়ারি তার সাজা কার্যকর করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে তেহরানের অভিযান চলাকালীন এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১০ হাজার আন্দোলনকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন, যারা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি তুলছেন।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোলতানির প্রাণ রক্ষায় মানবাধিকার কর্মীরা ‘তার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুন’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র তখন সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে দ্বিধা করবে না।
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য বোমা হামলার বিষয়টিও বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন, তেহরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো তিনি কখনো বরদাস্ত করবেন না।
































