ইরানে চলমান সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ যখন দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’।
রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানানো হয়, গত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ মার্কিন যুদ্ধ সরঞ্জাম, বিমান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতা বড় কোনো অভিযানের প্রস্তুতিরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের প্রতি কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ইরানের জনগণকে ‘মুক্ত করতে’ যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থান এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযানের পরপরই ইসরায়েলও সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় দেশটি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে একটি জরুরি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান যদি পাল্টা হামলার চেষ্টা করে বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে, তাহলে তারা কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একদিকে ইরানের রাজপথে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক চাপ—সব মিলিয়ে তেহরান এখন ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।
তবে ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিতে পিছপা হয়নি। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও নৌঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকিতে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।

































