ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের অনুমতি নেই, ফল তুলে নিতে ধর্মীয় রায় ইসরায়েলি রাবির
Published : ২০:২২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জলপাইবাগান থেকে ফল সংগ্রহের অনুমতি দিয়ে বিতর্কিত ধর্মীয় বিধান জারি করেছেন ইসরায়েলের প্রভাবশালী ইহুদি ধর্মীয় নেতা রাবি ডভ লিওর। শুক্রবার জারি করা ওই বিধানে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহে বাধার বিষয়টি উল্লেখ করে, তাঁদের অনুপস্থিতিতে অন্যদের ফল সংগ্রহের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
লিওরের বিধানে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে যেসব ফিলিস্তিনি জমির মালিক জলপাই সংগ্রহ করতে পারেননি, তাঁরা অতীতে যেসব বছর ফল সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছেন, সেসব বছরের আয়কে যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ওই যুক্তির ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের বাগান থেকে জলপাই সংগ্রহ এবং জমির মালিকানা দাবি করার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
১৯৩৩ সালে পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া লিওর ফিলিস্তিনিদের খামার থেকে জলপাই সংগ্রহকে ‘অতিরিক্ত একটি পুণ্যকর্ম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বসতি স্থাপনকারীদের ইহুদি সম্প্রদায় থেকে দূরের জমি ‘জয়’ করে নিজেদের মালিকানা প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানিয়েছেন।
ধর্মীয় বিধানে আরও দাবি করা হয়েছে, ইহুদি জনগণ কখনোই ওই ভূখণ্ডের ওপর তাদের দাবি ত্যাগ করেনি এবং আরবরা ইহুদিদের কাছ থেকে এসব জমি কেনেনি। তবে এসব বক্তব্য ধর্মীয় নেতার নিজস্ব দাবি; এগুলোকে জমির মালিকানা নির্ধারণের স্বীকৃত আইনি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার খবরের মধ্যেই এই বিধান সামনে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ফসল সংগ্রহের সময় পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের ৩৪টি হামলার ঘটনায় অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দৈনন্দিন সহিংসতার খবর সংগ্রহের সময় দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর হয়ে কাজ করা এক মার্কিন ফটোসাংবাদিক বসতি স্থাপনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। পাঁচটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ইসরায়েলি বিধিনিষেধ এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার আশঙ্কায় অনেক ফিলিস্তিনি কৃষক তাঁদের জমি ও ফসলের কাছে যেতে পারছেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে ইসরায়েলের নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের হামলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতি স্থাপনকারী ও তাঁদের সমর্থকদের সমর্থন পেতে কট্টর ডানপন্থী দলগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে।


































