ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ, ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ, ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলন।ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১১:৩৩, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের কর্মীরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে রাস্তায় নামেন তাঁরা।

বিভিন্ন স্থানে গাড়ির বহর নিয়ে হর্ন বাজিয়ে, সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন এবং ছোট ছোট জমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়। বড় সমাবেশের পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁদের ভোটদানে উৎসাহিত করাই ছিল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এটি ‘নো কিংস’ আন্দোলনের চতুর্থ কর্মসূচি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর আন্দোলনটির সূচনা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে বা রাজার মতো প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, যা মার্কিন সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী। এবারের কর্মসূচিতে ভোটার নিবন্ধন এবং ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগাম ভোট শুরু হয়েছে, সেখানে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছেন আয়োজকেরা।

ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের কাছে ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবিন কার্লসন। তাঁর ছাতায় লেখা ছিল, ‘ভোট, ক্ষমতা, জনগণ’। ৬৬ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ ও অভিযোগ জানানোর অনেক কারণ থাকলেও সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ভোট দেওয়া।

কার্লসনের মতে, কোথায় ও কীভাবে ভোট দিতে হবে এবং ভোটার নিবন্ধন সঠিক আছে কি না, সে বিষয়ে মানুষের পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। ভুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যাতে কেউ সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় নির্বাচনের নির্ধারিত দিনের কয়েক সপ্তাহ আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছেন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আয়োজকেরা।

ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কমন কজের তৃণমূল সংগঠক আলমা কুভার্থি বলেন, ভোট দেওয়াকে মানুষ যেন নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ, দায়িত্ব পালন ও আনন্দের কাজ হিসেবে দেখেন, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য।

এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমছে বলে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি।

শেয়ার করুনঃ
Advertisement