যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী সরকার আসতে পারে, নতুন জোট গড়ার তাগিদ নেতানিয়াহুর

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী সরকার আসতে পারে, নতুন জোট গড়ার তাগিদ নেতানিয়াহুর ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Published : ১৬:৩০, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি বৈরী সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা ও কৌশলগত সম্পর্ক অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন শেকেল বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার এক অনুষ্ঠানে নিজের নিরাপত্তানীতি তুলে ধরে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এ বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানান।

নেতানিয়াহু বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আসতে পারেন, যিনি ইসরায়েলের প্রতি অত্যন্ত বৈরী মনোভাব পোষণ করবেন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখা হবে এবং বিকল্প কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকার ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে পারে। এমনকি দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞায়ও যোগ দিতে পারে। এ সম্ভাবনা মোকাবিলায় ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়কে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

নেতানিয়াহুর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও জোট সম্প্রসারণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশের কথা উল্লেখ করেন। লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তনকেও ইসরায়েলের মিত্রদেশের পরিসর বাড়ানোর সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

তিনি বলেন, লাতিন আমেরিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে এবং ব্রাজিলেও কয়েক দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। এসব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন মিত্র অর্জন এবং এমন সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার অভিযোগ, কিছু দেশের সরকার প্রকাশ্যে ইসরায়েলের সমালোচনা করলেও বাস্তবে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, এসব দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তাদের আচরণ ও নীতির ওপর।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বাকি দুই বছরকে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে নেতানিয়াহু বলেন, আগামী এক দশকে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা জোরদারে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দিতে চান তিনি। এর আগে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেলের একটি প্রতিরক্ষা ব্যয় প্যাকেজে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে আগের প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) আকার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন নেতানিয়াহু। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে জনবলের চাহিদা কমতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে অর্থ ও জনবল—দুই ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ইরান প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দেশটির ওপর বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করা হলেও ইরানি শাসনব্যবস্থা এখনো হুমকি হয়ে রয়েছে। তার আশঙ্কা, তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন, অন্যান্য অপ্রচলিত অস্ত্রের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক পুনরায় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং দেশটির নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের হত্যা ও আহত করার কারণে জনবিক্ষোভের পরিস্থিতি প্রভাবিত হচ্ছে।

ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই তার নীতির লক্ষ্য বলেও স্পষ্ট করেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তার পরিকল্পনা বিস্তৃত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, দুই দেশের যোগাযোগ মূলত প্রয়োজন ও নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এসব স্বার্থ সব সময় একমুখী নয়; কখনো কখনো পরস্পরবিরোধীও হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সহযোগিতাকে এ ধরনের স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া ইসরায়েলবিরোধী বট নেটওয়ার্কের বিষয়টি তুলে ধরে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এসব নেটওয়ার্ক চরম ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়াচ্ছে। তবে সহযোগিতার সুযোগ থাকলে রাশিয়ার সঙ্গে তা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

সূত্র: ওয়াই নেট নিউজ

শেয়ার করুনঃ
Advertisement