জিয়ার কবর ঘিরে ২২০৯ কোটি টাকার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন হাসিনা
Published : ২৩:৫৪, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের বিস্তীর্ণ সবুজ চত্বরে টানা ৪৪ বছর ধরে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
এবার সেই ঐতিহাসিক সমাধিস্থলেই তাঁর পাশে শায়িত হলেন সহধর্মিণী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই স্থানটি শুধু একটি কবরস্থান নয়, বরং একটি যুগের স্মারক হিসেবেই বিবেচিত।
কিন্তু এই সমাধি সৌধ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব থেকে একাধিকবার জিয়াউর রহমানের সমাধি সরানোর চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, সেখানে জিয়াউর রহমানের মরদেহই নেই—যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সমালোচকদের মতে, জিয়াউর রহমানের সমাধি সরানোর একটি ‘পরিকল্পিত নীলনকশা’ হিসেবেই শেখ হাসিনার সরকার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ’ প্রকল্প হাতে নেয়।
২০১৫ সালে এই প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনও করা হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের এই এলাকাতেই বড় ধরনের নির্মাণকাজ হওয়ার কথা ছিল, যা কার্যত সমাধি সৌধের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলত বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেই সঙ্গে রক্ষা পায় শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধি।
আলোচিত জাতীয় সচিবালয় প্রকল্পটিও কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। পরিকল্পনা কমিশনে এর কোনো অগ্রগতি নেই, এমনকি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকেও প্রকল্পটির আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) কবির আহামদ বলেন, ‘ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ’ নামে কোনো প্রকল্প তাঁর চোখে পড়েনি।
প্রকল্পটি কোথায় আছে বা আদৌ আছে কি না—সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। একই সুর শোনা গেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েও। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা-৩) খলিল আহমেদ বলেন, ‘প্রকল্পটির এখন কোনো খবর নেই, কোনো নড়াচড়াও নেই।’
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এক সময়ের আলোচিত সেই প্রকল্প যেমন হারিয়ে গেছে, তেমনি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা জিয়াউর রহমানের সমাধিও আপাতত রক্ষা পেয়েছে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বিডি/এএন






























