যার নির্দেশে ওসমান হাদিকে করা হয়েছিল গুলি

যার নির্দেশে ওসমান হাদিকে করা হয়েছিল গুলি ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published : ১৭:৪০, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম বাপ্পির নির্দেশে ফয়সাল করিম গুলি চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধিতা ডিবি পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলায় পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। মামলায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পলাতক আসামিরা হলেন— শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর, তাজুল ইসলাম বাপ্পি, ফিলিপ ও জেসমিন, মুক্তি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও সত্য ডিবি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মূল আসামি ফয়সালের ভিডিওটি সঠিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারদের তালিকা এ পর্যন্ত মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, ভাড়ায় প্রাইভেটকার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম রাজু এবং মো. ফয়সাল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই বিচার শেষ হবে এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সম্পন্ন করা হবে।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে মূল অভিযুক্ত ফয়সালের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement