ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে ছাত্র তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় আরও সাতজনকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
সম্প্রতি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আদালতের প্রসিকিউশন দফতর শাহবাগের সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার ছয়জনের জবানবন্দিতে নাম আসার পর আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হলে বাদী নারাজি দেন। নারাজির বিষয়টি নিয়ে ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নতুন অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল মিয়া (২৬), মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া (২১), পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোত্তাকিন সাকিন শাহ (২৪), ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ (২৩), ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ (২৪), ওয়াজিবুল আলম (২২), ফিরোজ কবির (২৩), আব্দুস সামাদ (২৪), সাকিব রায়হান (২২), ইয়াছিন আলী গাইন (২১), ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম (২২), ফজলে রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার কবির শোভন (২৪), মেহেদী হাসান ইমরান (২৫), রাতুল হাসান (২০), সুলতান মিয়া (২৪), নাসির উদ্দীন (২৩), মোবাশ্বের বিল্লাহ (২৫), শিশির আহমেদ (২২), মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি (২৩), আব্দুল্লাহিল কাফি (২১), শেখ রমজান আলী (২৫), রাশেদ কামাল অনিক (২৩), মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ (২৪), আবু রায়হান (২৩), রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪), রাব্বিকুল রিয়াদ (২৩) ও আশরাফ আলী মুন্সী (২৬)।
মামলার ঘটনা ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটে। ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে ৩২ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্যাতন করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে তাঁকে মারধরের পর ক্যানটিনে ভাত খাওয়ানো হয়। খাওয়ানো শেষ হওয়ার পর আবারও তাঁকে মারধর করা হয়। রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে অবস্থিত।


































