মিয়ানমার সীমান্তে বিস্ফোরণ, আতঙ্কে টেকনাফবাসী
Published : ২১:১১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিকট এসব শব্দে বাংলাদেশের ভেতরের সীমান্তবর্তী এলাকার বাড়িঘর পর্যন্ত কেঁপে উঠছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে প্রথম দফায় এবং শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন অঞ্চলে থেমে থেমে এ বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে, যা এখনও চলমান রয়েছে।
হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনার পর আতঙ্কে সারারাত ঘুমাতে পারেননি তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের একেবারে কাছ থেকেই এসব গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে।
আরেক বাসিন্দা বলেন, হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন এলাকায় প্রায়ই বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। এ কারণে নাফ নদী ও চিংড়িঘেরে মাছ ধরতে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাতে বাড়িতে অবস্থান করলেও সব সময় এক ধরনের ভয় কাজ করে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকায় মাছ ধরার সময় মো. আলমগীর নামের এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এর আগেও একাধিকবার সীমান্তে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবারও সকাল থেকে বাংলাদেশ অংশে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার পর থেকে রাখাইন সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে এপারের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠছে। বেলা ১১টার দিকে পরপর তিন থেকে চারটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরও থেমে থেমে গুলির শব্দ ভেসে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষজন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। অতীতে রাখাইন সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলি বাংলাদেশ অংশে এসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যাতে লোকজন আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিডি/এএন































