এবার সরকার পতনের দাবিতে উত্তাল ইরান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন
Published : ১৮:৫৮, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। এবার বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে সরাসরি সরকার পতনের ডাক শোনা যাচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দিচ্ছেন— ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি (IRIB)-এর একটি ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমে কড়াকড়ির কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে উল্লাস করছেন বিক্ষোভকারীরা।
এইচআরএএনএর তথ্যমতে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতেই অন্তত ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমনে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ পথচারী নিহত ও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান চরম সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে ‘কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না’।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।
২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’—অর্থাৎ যে কোনো সময় হস্তক্ষেপে প্রস্তুত। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এ ছাড়া ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র ও নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি ইরানে চলমান আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বুধবারের বিক্ষোভকে ‘অভূতপূর্ব’ আখ্যা দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আরও বড় পরিসরে নতুন বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের চাপ—সব মিলিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব। চলমান বিক্ষোভ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
বিডি/এএন

































