রাজশাহী মেডিকেলে হৃদ্রোগের জন্য ১৭ কোটি টাকার ওষুধ সহায়তা

Published : ১৭:১৪, ২৮ আগস্ট ২০২৫
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদ্রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ওষুধ এসেছে। কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ানের উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ফলেই এই সহায়তা পাওয়া গেছে।
নেদারল্যান্ডস থেকে গত ২০ আগস্ট ওষুধগুলো ঢাকায় এসে পৌঁছে এবং সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করে। প্রাপ্ত ওষুধের মধ্যে রয়েছে অ্যাল্টেপ্লেস নামক একটি অত্যাধুনিক থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ, যা স্ট্রোক ও মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হৃৎপেশির রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয়ে টিস্যুর মৃত্যু)–এর মতো মারাত্মক অবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
শীর্ষ শ্রেয়ান রাজশাহী মেডিকেলের ৬১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্বখ্যাত সংগঠন ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশন, ডিরেক্ট রিলিফ এবং এঞ্জেল ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ওষুধগুলো আনতে সক্ষম হন। এ উদ্যোগে তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আজিজুল হক (আজাদ)।
নিজ অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে শীর্ষ শ্রেয়ান বলেন, রাজশাহী মেডিকেলের পঞ্চম বর্ষে পড়াকালীন তিনি ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের “ফিউচার স্ট্রোক লিডারস কোহর্ট-২” প্রকল্পে গবেষণার সুযোগ পান। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে তিনি কাজ করেন হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তাদের যৌথ গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল অব স্ট্রোকে প্রকাশিত হয় এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘বেস্ট পেপার’ হিসেবে ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক একাডেমির স্বীকৃতি পায়। এই অর্জনের সূত্র ধরেই ডিরেক্ট রিলিফের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক গর্ডন উইলহক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং রাজশাহী মেডিকেলে অ্যাল্টেপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানতে চান। এরপর থেকেই মূলত সহযোগিতার পথ খুলে যায়।
অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। সাধারণত কোম্পানিগুলো যেসব ওষুধের এক বছর মেয়াদ থাকে, সেগুলো দাতা সংস্থার মাধ্যমে দরিদ্র দেশগুলোতে পাঠায়—যাতে বিনামূল্যে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়। প্রথমে এই ওষুধগুলো কেবল স্ট্রোক চিকিৎসার জন্য অনুমোদিত থাকলেও, অনুরোধের পর সংস্থা হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের অনুমতিও দেয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত ওষুধ দিয়ে প্রায় ৫০০ রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। রাজশাহী মেডিকেলের রোগীর চাপ বিবেচনায় এ ওষুধ এক বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। এ ওষুধ ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ জানান, হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি টাকার ওষুধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবারই প্রথম মিলল।
BD/AN