আইসিসিকে বিসিবির পাঠানো বিস্তারিত ব্যাখ্যা

আইসিসিকে বিসিবির পাঠানো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ১৬:১৯, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

গতকাল বিসিবি আইসিসিকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে বিশ্বকাপ চলাকালে বাংলাদেশ দলকে ভারতের বাইরে খেলানোর পেছনের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আশঙ্কাগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে রোববার বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে আবেদন জানায়, যেন আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে আয়োজন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি বিসিবিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো লিখিতভাবে বিস্তারিত আকারে জানাতে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনার আলোকে বিসিবি এবার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাসহ চিঠি পাঠিয়েছে।

বর্তমানে বিসিবি আইসিসির প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে জবাব পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—বাংলাদেশ দল আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, বুধবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আবারও ভারতের সফরে না যাওয়ার বিষয়ে বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করেন। বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল বলেন, সরকার জাতীয় সম্মান ও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবে না। তিনি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ অবশ্যই ভারতের বাইরে খেলবে এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে তাদের ভারতে পাঠানো সমীচীন হবে না।

এ বিষয়ে দেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তামিম বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সবচেয়ে ভালো পথ।

তামিম ইকবাল আরও বলেন, তিনি যদি বিসিবিতে থাকতেন, তাহলে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় বোর্ডের অভ্যন্তরেই আলোচনা করতেন। তাঁর মতে, একবার প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানালে সেখান থেকে সরে আসা কঠিন হয়ে যায়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং আইসিসি থেকে বিসিবির মোট আয়ের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আসে। সে কারণেই সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সর্বোত্তম হয়।

সবশেষে বলা যায়, এখন বিসিবি পুরোপুরি আইসিসির জবাবের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সেই জবাব পাওয়ার পরই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, নাকি দল সরে দাঁড়াবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement