ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছবি: সংগৃহীত

বিজনেস ডেইলি ডেস্ক

Published : ০৩:১৯, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

কলম্বিয়ার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সীমান্ত এলাকায় কোকেন পাচারে জড়িত গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বোগোতায় এক সাক্ষাৎকারে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

বুধবার দুই নেতার মধ্যে প্রথমবারের মতো ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই ফোনালাপের মাধ্যমে সাম্প্রতিক উত্তেজনা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।

কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্দো বেনেদেত্তি ব্লু রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কলম্বিয়ার শেষ বড় সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)-এর বিরুদ্ধে ‘যৌথ পদক্ষেপ’ গ্রহণে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

কলম্বিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, ইএলএন প্রায়ই কলম্বীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা ও অপহরণ চালিয়ে থাকে এবং পরে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে অবস্থিত তাদের পেছনের ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়। এ কারণে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।

বেনেদেত্তি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট পেত্রো ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলা সীমান্ত এলাকায় ইএলএনের বিরুদ্ধে ‘কঠোর আঘাত হানতে সহায়তা’ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, শুধু কলম্বিয়ার ভেতরে নয়, গেরিলাদের সীমান্তপারের আশ্রয়স্থলগুলোতেও সমন্বিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।

কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার, অবৈধ খনন ও চোরাচালান থেকে লাভের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে।

২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট পেত্রো ইএলএনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোচনা অচল হয়ে পড়ে এবং সহিংসতা আবারও বাড়তে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় হলেও পেত্রো ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। এর আগে ট্রাম্প পেত্রোকে মাদক পাচারকারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মন্তব্য করেন, যার জবাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার হুঁশিয়ারি দেন।

চলতি মাসের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করার পর ট্রাম্প পেত্রোকে ‘নিজের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে’ বলেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।

দশকের পর দশক ধরে ওয়াশিংটন ও বোগোতার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকলেও, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কলম্বিয়া সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিডি/এএন

শেয়ার করুনঃ
Advertisement