পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তি
Published : ১৮:৫২, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য একটি শক্তিশালী সামরিক জোটে বাংলাদেশের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জল্পনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধি এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি এই আলোচনা আরও তীব্র করেছে।
গত কয়েক মাসে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাংলাদেশকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার পথ আরও সুগম করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের পর নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সামরিক জোটে যুক্ত হয়, তাহলে তা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিই এই সম্ভাব্য জোটের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, অংশীদার কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে—যা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান, ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সৌদি আরব—এই তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোটটিকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিরক্ষা জোটে পরিণত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীও পাকিস্তানের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির একটি খসড়া কাঠামোর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরকালে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে আলোচনা হয়, যা বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দ্রুত ‘সুপার মুশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কেবল অস্ত্র ও সরঞ্জাম ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গোপনীয় তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও তা বিস্তৃত হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের এই জোটে যোগদানের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় খসড়া পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে গেলেও, চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের দায়িত্ব থাকবে নবনির্বাচিত সংসদের ওপর।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এই জোট বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে দেশের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অবস্থান, আঞ্চলিক সংবেদনশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক ও হিসেবি পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ যদি এই চতুর্মুখী সামরিক জোটে যুক্ত হয়, তবে তা মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এক নতুন ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের সূচনা করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিডি/এএন































